ইতিহাস প্রখ্যাত বারো আউলিয়ার অন্যতম মহান সংস্কারক, শাসক ও সাধক পীর খাজা খান জাহান আলী (র:) এর পদরজ: পবিত্র প্রাচীন খলিফাতাবাদ তথা বর্তমান বাগেরহাটের বুকচিরে সৃষ্টি হওয়া প্রায় ১৫০ বছরের আলোক বর্তিকা “বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল"।
বৃটিশ শাসিত বাংলার এতদঞ্চলে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় তৎকালীন বাগেরহাট মহকুমা প্রশাসক বাবু গৌরদাস বসাক মহোদয়ের আন্তরিকতাপূর্ণ প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য জমিদার গণের সহযোগিতা ও জমিদানের মধ্য দিয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৮৭৮ সালের ১৩ই জুন কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ও বৃটিশ শাসন হতে মুক্তি, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মারাত্নক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েও মহাকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলটি বাগেরহাট স্কুল, টাউন স্কুল, বাগেরহাট উচ্চ বিদ্যালয় তথা আজকের আধুনিক “বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল”। এই বিদ্যালয়টি আমার কাছে একটি অনুভূতি, আমার প্রাণের স্পন্দন কেননা, আমি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ১৯৯৩ সালে আমি এই প্রতিষ্ঠান থেকে এস.এস.সি তে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হই। তাই তো এই প্রতিষ্ঠান আমার কাছে আমার শিকড়, আমার আকাশ , আমার স্বপ্ন, চাকরী নয় এ এক জীবনের ক্যানভাস।
আমি এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করি ২০০৪ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে এবং ২০১৭ সালে ১৩ই সেপ্টেম্বর আমি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে যোগদান করি। ইতোমধ্যে পূর্বের বাগেরহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ২০১২ সালে কলেজিয়েট স্কুলে রূপান্তরিত হয়। এখন প্রতিষ্ঠানটিতে ১ম-১২শ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করেন। ছেলে-মেয়ের কো-এডুকেশন স্কুল, তবে ক্লাস ছেলে-মেয়েদের আলাদা হয়। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাগেরহাট শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ সি সি টিভির আওতাভূক্ত। প্রতিষ্ঠানটির আছে নান্দনিক গেট ও সুৃদৃশ্য অবকাঠামো। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ। দূর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ তদারকীর ব্যবস্থা, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা এবং ৫ম, ৮ম , ১০ম ও ১২শ শ্রেণির জন্য বিশেষ পাঠদান করা হয়।
শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সক্ষমতার পার্থক্য থাকলেও শিক্ষকরা এমন কৌশলে পাঠদান করেন যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী সহজ ও গভীর ভাবে পড়া বুঝতে পারে। লেখাপড়া সহ পাঠ্যক্রম তথা প্রতিষ্ঠানটি প্রায়শই স্থানীয়, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার প্রাপ্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে রেডক্রিসেন্ট, গার্লগাইডস্ ও স্কাউট এর মতো সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শিক্ষা মানুষের জীবনকে আলোকিত করে, চিন্তাকে করে শাণিত, বিবেককে করে জাগ্রত। আমাদের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে তাই তাদের স্বপ্ন দেখতে হবে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিশ্রম করতে হবে এবং শত প্রতিকূলতার মধ্যেই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে।
আমি আশা করি, এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার মহিমার দ্যুতি আরও শত শত বর্ষ রাখুক। অদূর ভবিষ্যতেও এই প্রতিষ্ঠান আধুনিক, সৃজনশীল, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রায় অগ্রণী অবদান রাখবে এই আমার প্রত্যাশা।